গণ–অভ্যুত্থানে নিহত অনেককে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন, পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা কম
রায়েরবাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় ১১৪টি মরদেহ। তাঁদের অনেকে গণ–অভ্যুত্থানে নিহত।
রায়েরবাজার কবরস্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন বহন করে। ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন আন্দোলন ও সংঘর্ষে নিহত অনেক ব্যক্তির মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে রায়েরবাজারে দাফন করা হয়েছিল। এসব মরদেহের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। তাদের বেশির ভাগই ছিলেন ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ, যারা তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এই গণ–অভ্যুত্থান ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে। রায়েরবাজার কবরস্থান তাই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের প্রতীক।
কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঐ সময়ে এই কবরস্থান পরিণত হয় একটি প্রতীকী স্থানে, যা স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করে।
রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফনকৃত ওই ১১৪ জনের অনেকেই ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা বা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে উত্থান ঘটে জাতির মুক্তির প্রথম পদক্ষেপের। বিশেষত আসাদ, মতিউর রহমান মল্লিকসহ অন্যান্য শহীদের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল অমর হয়ে আছে।
এই গণ–অভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন নয়, এটি ছিল এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মাইলফলক। রায়েরবাজার আজও সেসব শহীদদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য।

Comments
Post a Comment